পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ঘোষিত বহুল আলোচিত Banglar Yuva Sathi Scheme নিয়ে আবারও বড় আপডেট সামনে এসেছে। ইতিমধ্যে অনেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা চলে এসেছে এবং অনেকের একাউন্টে এখনো টাকা আসেনি। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পের টাকা কবে থেকে পাওয়া যাবে তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। অবশেষে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে যে যোগ্য আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ সাহায্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, আগে ধারণা করা হচ্ছিল যে আগামী মাস থেকে এই প্রকল্পের ভাতা দেওয়া শুরু হবে। কিন্তু নতুন নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগেই কিছু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ঘোষণা দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee, যার ফলে রাজ্যের বহু বেকার যুবক-যুবতীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।

তবে এখনও অনেক আবেদনকারী নিশ্চিত নন যে তাদের আবেদনটি সরকারের ডাটাবেসে গৃহীত হয়েছে কি না। তাই প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য জরুরি বিষয় হলো নিজের অ্যাপ্লিকেশন স্ট্যাটাস যাচাই করা।

যুবসাথী প্রকল্প কী এবং কেন চালু করা হয়েছে

রাজ্যের বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত যুবক-যুবতী দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় রয়েছেন। চাকরি খোঁজার এই সময়ে অনেকেই আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হন। সেই পরিস্থিতিতে তাদের কিছুটা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকার এই প্রকল্প চালু করেছে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার মূলত চায় যাতে যুব সমাজ চাকরি খোঁজার সময় কিছুটা আর্থিক নিরাপত্তা পায় এবং নিজের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সময় পায়।

প্রকল্প অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে থাকা কর্মহীন যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতা প্রদান করা হবে।

কত টাকা দেওয়া হবে এই প্রকল্পে

যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত উপভোক্তাদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

আর্থিক সুবিধার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বিষয় তথ্য
প্রকল্পের নাম বাংলার যুবসাথী
মাসিক ভাতা ₹১৫০০
বয়সসীমা ২১ – ৪০ বছর
উপভোক্তা কর্মহীন যুবক-যুবতী
টাকা পাঠানোর পদ্ধতি সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে

এই টাকা সরাসরি DBT (Direct Benefit Transfer) পদ্ধতিতে উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

কতজন আবেদন করেছেন

প্রকল্পটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে বিপুল সাড়া পড়ে। বিভিন্ন ক্যাম্প, সরকারি দপ্তর এবং অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে লাখ লাখ আবেদন জমা পড়েছে।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েক কোটি যুবক-যুবতী আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে অনেকেই অফলাইনে আবেদন করেছেন, আবার অনেকে সরাসরি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করেছেন।

এই বিপুল সংখ্যক আবেদন যাচাই করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অনলাইনে নিজের আবেদন স্ট্যাটাস কীভাবে দেখবেন

যারা এই প্রকল্পে আবেদন করেছেন তারা খুব সহজেই নিজের মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করে আবেদন স্ট্যাটাস জানতে পারেন।

নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনি আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন।

ধাপে ধাপে স্ট্যাটাস চেক করার পদ্ধতি

  1. প্রথমে সরকারের নির্দিষ্ট পোর্টাল খুলুন
  2. সেখানে গিয়ে Check Status অপশনে ক্লিক করুন
  3. আবেদন করার সময় যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেছিলেন সেটি লিখুন
  4. স্ক্রিনে দেওয়া ক্যাপচা কোড পূরণ করুন
  5. এরপর OTP পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট বোতামে ক্লিক করুন
  6. মোবাইলে আসা OTP লিখে যাচাই সম্পন্ন করুন

যদি আপনার আবেদনটি সিস্টেমে সংরক্ষিত হয়ে থাকে, তাহলে স্ক্রিনে আপনার রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং আবেদন সংক্রান্ত তথ্য দেখা যাবে।

এছাড়াও সেখান থেকে আপনি আপনার আবেদনপত্রের কপি দেখতে বা ডাউনলোড করতে পারবেন।

অফলাইন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সমস্যা কেন হচ্ছে

রাজ্যের বহু মানুষ দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বা ব্লক অফিসে গিয়ে কাগজের ফর্ম জমা দিয়েছেন। এই সমস্ত আবেদনপত্র এখন ধীরে ধীরে অনলাইন পোর্টালে আপলোড করা হচ্ছে।

এই কারণে অনেক সময় দেখা যাচ্ছে—

  • অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখা যাচ্ছে না
  • নতুন করে আবেদন করার অপশন দেখাচ্ছে

এই পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। কারণ সব ফর্ম এখনও পুরোপুরি ডিজিটাল ডাটাবেসে আপলোড করা হয়নি।

নতুন করে আবেদন করা কি উচিত

অনেক আবেদনকারী ভাবছেন যে স্ট্যাটাস না দেখালে আবার নতুন করে আবেদন করা উচিত কি না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন করে আবেদন করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ—

  • পরে অফলাইন ফর্ম আপলোড হলে
  • একই আধার নম্বর থাকলে সেটি ডুপ্লিকেট আবেদন হিসেবে ধরা পড়তে পারে

ফলে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

তাই সবচেয়ে ভালো উপায় হলো কিছুদিন অপেক্ষা করা।

চূড়ান্ত অনুমোদন কবে প্রকাশ হবে

বর্তমানে পোর্টালে মূলত আবেদনকারীদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ আবেদনটি সিস্টেমে নথিভুক্ত হয়েছে কি না সেটাই এখন নিশ্চিত করা যাচ্ছে।

তবে এখনও পর্যন্ত নিচের তথ্যগুলি প্রকাশ করা হয়নি—

  • আবেদন অনুমোদিত হয়েছে কি না
  • আবেদন বাতিল হয়েছে কি না
  • টাকা পাঠানো হয়েছে কি না

এই তথ্যগুলি প্রকাশ করতে প্রশাসনের আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।

প্রকল্পের গুরুত্ব

যুবসাথী প্রকল্পকে অনেকেই রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্য একটি বড় সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে—

  • কর্মহীন যুবকদের আর্থিক সহায়তা মিলবে
  • চাকরি খোঁজার সময় আর্থিক চাপ কমবে
  • যুব সমাজের মধ্যে নতুন করে আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে যুব সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্প ইতিমধ্যেই বহু যুবক-যুবতীর কাছে বড় সহায়ক উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত হয়েছে। অনেকেই এই প্রকল্পের মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সহায়তা পাওয়ার আশা করছেন।

তবে এই সুবিধা পাওয়ার আগে প্রত্যেক আবেদনকারীরই উচিত নিজের আবেদনটি সিস্টেমে নথিভুক্ত হয়েছে কি না তা যাচাই করা।

তাই যারা ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন তারা অনলাইনে গিয়ে নিজেদের Application Status একবার দেখে নিতে পারেন।