পশ্চিমবঙ্গে বেকার যুবকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে চালু হওয়া Yuva Sathi Scheme নিয়ে নতুন করে বড় বার্তা দিল রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে অধিকাংশ মানুষের প্রথম কিস্তির টাকা ব্যাংক একাউন্টে চলে এসেছে অনেকের এখনো পর্যন্ত আসেনি খুব শীঘ্রই চলে আসবে এবং খুব সম্ভবত আগামী সোমবারের মধ্যেই সকলের ব্যাংক একাউন্টে টাকা চলে আসবে। এছাড়াও যাদের প্রথম টাকা চলে এসেছে তাদের পরবর্তী কিস্তির টাকা পরের মাসের ১০ তারিখের মধ্যেই একাউন্টে চলে আসবে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, নবান্নে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—যুবসাথী প্রকল্পের টাকা দ্রুত উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এই প্রকল্পকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা যেমন তুঙ্গে, তেমনই বহু যুবক-যুবতীর মধ্যেও তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। ইতিমধ্যেই অনেক আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করেছে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

Read Also: বাংলার বাড়ি প্রকল্পে বড় ঘোষণা! পাবেন ১.২০ লক্ষ টাকা সহ জমির পাট্টা—মমতার বড় ঘোষণা- Banglar Bari Prakalpa

নবান্নের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা

রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর Nabanna-তে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, উন্নয়নের কাজ এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যেন কোনওভাবেই থেমে না যায়।

সূত্রের খবর, বৈঠকে তিনি নির্দেশ দেন—

  • যুবসাথী প্রকল্পের টাকা দ্রুত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দিতে হবে
  • ভোটের আবহ থাকলেও উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ রাখা যাবে না
  • প্রশাসনকে সক্রিয়ভাবে সমস্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চালিয়ে যেতে হবে

মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পরই প্রশাসনিক মহলে দ্রুত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া

রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। অনেকের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই অর্থ পৌঁছেছে। অনেকের একউন্টে এখনো পর্যন্ত টাকা আসেনি তবে খুব শীঘ্রই একাউন্টে টাকা চলে আসবে।

এই প্রকল্পে যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে প্রায় ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। মূল লক্ষ্য হল বেকার যুবকদের কিছুটা আর্থিক সহায়তা দেওয়া যাতে তারা চাকরির প্রস্তুতি বা দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে পারেন।

ভোটের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক তরজা

যুবসাথী প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে শাসক দল বলছে এটি বেকার যুবকদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ, অন্যদিকে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে—ভাতা দেওয়ার পরিবর্তে স্থায়ী চাকরি দেওয়া উচিত।

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই প্রকল্প এখন অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী বললেন

এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। তিনি বলেন, যারা আগে এই প্রকল্প নিয়ে সমালোচনা করতেন, তারাও এখন ফর্ম জমা দিচ্ছেন।

তার কথায়, রাজ্য বাজেটে ঘোষণার এক মাসের মধ্যেই অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাওয়া সরকারের দ্রুত কাজ করারই প্রমাণ।

উপভোক্তাদের অভিজ্ঞতা: কেউ খুশি, কেউ চাকরি চান

এই প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভিন্ন মতামত দেখা যাচ্ছে।

সুবিধা পাচ্ছেন যারা

দুর্গাপুরের এক আইন পড়ুয়া জানিয়েছেন, এই আর্থিক সহায়তা তার জন্য বেশ উপকারী হয়েছে। চাকরির ফর্ম ফিল-আপ এবং পরীক্ষার কেন্দ্রে যাতায়াতের খরচ মেটাতে এই টাকা সাহায্য করছে।

আবার রানিগঞ্জের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, সংসারের চাপ সামলাতে এই ভাতার টাকা কিছুটা ভরসা দিচ্ছে।

অন্যদিকে কিছু যুবকের দাবি

কিছু যুবক-যুবতীর মতে, ভাতা নয়—স্থায়ী চাকরিই তাদের মূল চাহিদা।

বর্ধমানের এক যুবকের বক্তব্য, সরকার যদি যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগের ব্যবস্থা করে তাহলে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় সহায়তা।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশে বেকারত্ব একটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা। অনেক শিক্ষিত যুবক চাকরির সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন দীর্ঘদিন।

এই পরিস্থিতিতে যুবসাথীর মতো প্রকল্প কিছুটা হলেও আর্থিক সহায়তা দিতে পারে। যদিও এটি স্থায়ী সমাধান নয়, তবে চাকরির প্রস্তুতি বা ছোটখাটো খরচ মেটাতে অনেকের কাজে আসতে পারে।

কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন

সাধারণত এই প্রকল্পের জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকতে হয়, যেমন—

  • পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে
  • নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে থাকতে হবে
  • আবেদনকারী বেকার হতে হবে
  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও প্রয়োজনীয় নথি থাকতে হবে

যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়।

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পেতে কী কী দরকার

অনেক সময় দেখা যায় আবেদন করা সত্ত্বেও অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছাতে দেরি হয়। এর পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ থাকতে পারে—

  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া
  • কেওয়াইসি আপডেট না থাকা
  • আধার সংযুক্ত না থাকা
  • আবেদনপত্রে ভুল তথ্য

তাই আবেদনকারীদের নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় আছে কি না তা আগে নিশ্চিত করতে বলা হচ্ছে।

সামনে কী হতে পারে

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা এখনো হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। এই আবহে যুবসাথী প্রকল্পকে ঘিরে আলোচনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উন্নয়নমূলক কাজ এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্প কোনওভাবেই বন্ধ করা হবে না।

যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে রাজ্যে মতভেদ থাকলেও বাস্তবতা হল—এই প্রকল্প ইতিমধ্যেই বহু বেকার যুবকের কাছে কিছুটা আর্থিক সহায়তার উৎস হয়ে উঠেছে। কেউ এটিকে সাময়িক স্বস্তি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন চাকরির বিকল্প কখনোই ভাতা হতে পারে না।

তবে আপাতত প্রশাসনের দাবি, আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে দ্রুত টাকা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। তাই যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও নথি ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Read Also: বন্ধ হচ্ছে লক্ষী ভান্ডার! এই ভুল করলে বন্ধ হতে পারে ভাতা, কী জানাল রাজ্য সরকার - Lakshmir Bhandar Scheme